মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প-এর কড়া হুমকির জবাবে পাল্টা যুদ্ধের হুঁশিয়ারি দিয়েছে তেহরান। ইরান স্পষ্ট জানিয়েছে, তাদের দেশের কোনো জাতীয় বা বেসামরিক অবকাঠামোতে আঘাত করা হলে তারা চুপ করে বসে থাকবে না।

এর বদলে একই কায়দায় পাল্টা ব্যবস্থা হিসেবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্কিত যেকোনো স্থাপনা বা অবকাঠামোকে লক্ষ্যবস্তু করা হবে। হরমুজ প্রণালী খুলে দেওয়ার বিষয়ে ট্রাম্পের সাম্প্রতিক চরমপত্র এবং ‘সবকিছু ধ্বংস’ করার হুমকির পরিপ্রেক্ষিতে এই পাল্টাপাল্টি অবস্থানে মধ্যপ্রাচ্যে বড় ধরনের যুদ্ধের মেঘ ঘনীভূত হচ্ছে।

 

সোমবার (৬ এপ্রিল) ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই এক সংবাদ সম্মেলনে এই হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন। তিনি বলেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র যদি ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্র বা সেতুর মতো অবকাঠামোতে হামলা চালায়, তবে ইরানের সশস্ত্র বাহিনীও একইভাবে তার জবাব দিতে প্রস্তুত।

বাঘাইয়ের মতে, আমেরিকার মালিকানাধীন বা তাদের স্বার্থসংশ্লিষ্ট যেকোনো স্থাপনা যা ইরানের বিরুদ্ধে আগ্রাসনে সরাসরি বা পরোক্ষভাবে সহায়তা করবে, সেগুলোকেই ইরান লক্ষ্যবস্তু বানাবে। তিনি কার্যত ইঙ্গিত দেন যে, ইরানের স্থাপনায় হামলা হলে, যুক্তরাষ্ট্রের স্থাপনায়ও হামলা হবে—তেহরানের এই কড়া বার্তা তাদের দৃঢ় অবস্থানকে স্পষ্ট করে।

 

এদিকে ইরানের এই কঠোর অবস্থানের প্রতিধ্বনি শোনা গেছে দেশটির পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ-এর কণ্ঠেও। তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মার্কিন প্রশাসনকে সতর্ক করে বলেন, ট্রাম্পের এই ধরনের হঠকারী সিদ্ধান্ত ওয়াশিংটনকে একটি ‘জীবন্ত নরকের’ দিকে ঠেলে দিচ্ছে।

 

গালিবাফ মনে করেন, এই অঞ্চলে আগুনের খেলা শুরু করলে তার আঁচ থেকে যুক্তরাষ্ট্রও রেহাই পাবে না। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই পাল্টা হুমকি বিশ্ববাজারে বিশেষ করে জ্বালানি তেলের দামে বড় ধরনের অস্থিরতা তৈরি করতে পারে।

 

বর্তমানে দুই দেশের এই স্নায়ুযুদ্ধ কেবল হুমকির মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই। ইরান ইতিমধ্যে ইঙ্গিত দিয়েছে যে, তাদের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় তারা যেকোনো আন্তর্জাতিক আইন মেনেই পাল্টা আঘাত হানবে।

 

অন্যদিকে ওয়াশিংটনও তাদের মিত্রদের নিয়ে রণপ্রস্তুতি জোরদার করছে। হরমুজ প্রণালী ঘিরে উত্তেজনা এবং তেল পরিবহনের গুরুত্বপূর্ণ এই পথ নিয়ে অবস্থান দুই পক্ষের মধ্যে সংঘাতের ঝুঁকি আরও বাড়িয়ে তুলছে।

 

ট্রাম্প অ্যাক্সিওস-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, চুক্তি না হলে ইরানের অবকাঠামোতে বড় ধরনের হামলা চালানো হতে পারে। পাশাপাশি তিনি ট্রুথ সোশ্যালে কঠোর ভাষায় সতর্ক করে বলেন, হরমুজ প্রণালী খুলে না দিলে ইরানকে কঠিন পরিণতির মুখে পড়তে হবে।

এই ধরনের বক্তব্য পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করে তুলেছে।

 

বিশ্লেষকদের মতে, এই পাল্টাপাল্টি হুমকি মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে বড় ধরনের সামরিক সংঘাতের ঝুঁকি তৈরি করেছে। দুই পক্ষের কঠোর অবস্থান কেবল আঞ্চলিক নিরাপত্তা নয়, বৈশ্বিক অর্থনীতিকেও হুমকির মুখে ফেলতে পারে।

ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে উত্তেজনা দীর্ঘায়িত হলে তেল সরবরাহ ব্যবস্থা ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কাও রয়েছে।

 

এদিকে কাতার ও ওমানের মতো দেশগুলো মধ্যস্থতার চেষ্টা চালালেও এখনো কোনো কার্যকর সমাধান আসেনি।

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, উত্তেজনা কমাতে ব্যর্থ হলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে, যা আন্তর্জাতিক নিরাপত্তার জন্য মারাত্মক হুমকি হয়ে দাঁড়াবে।

তথ্যসূত্র : দ্য ইকোনমিক টাইমস