মধ্যপ্রাচ্যে চলমান রাজনৈতিক ও সামরিক সংঘাত তীব্র আকার ধারণ করায় আন্তর্জাতিক আকাশপথে চরম অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

এর সরাসরি প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশের প্রধান বাণিজ্যিক নগরী চট্টগ্রামের শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ৩ এপ্রিল পর্যন্ত মাত্র ৩৫ দিনে শাহ আমানত বিমানবন্দর থেকে মোট ২৪৫টি আন্তর্জাতিক ফ্লাইট বাতিল করতে বাধ্য হয়েছে কর্তৃপক্ষ।

মধ্যপ্রাচ্যের আকাশসীমায় যুদ্ধবিমান, ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনের উড়াউড়ির কারণে বেসামরিক বিমান চলাচলের রুটগুলো চরম ঝুঁকির মুখে পড়েছে।

বিমানবন্দর সূত্র জানিয়েছে, শুক্রবার (৩ এপ্রিল) নতুন করে মধ্যপ্রাচ্যগামী ও আগমনী ৬টি ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। এর মধ্যে এয়ার আরাবিয়ার ২টি, সালাম এয়ারের ২টি এবং অন্যান্য এয়ারলাইন্সের ফ্লাইট রয়েছে।

ফলে বিমানবন্দরে নেমে এসেছে সুনসান নীরবতা।

সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়েছে শারজাহ, দুবাই, আবুধাবি ও ওমানগামী রুটে। মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশ আকাশসীমা আংশিক বা সম্পূর্ণ বন্ধ করে দেওয়ায় এয়ারলাইন্সগুলো শিডিউল পরিবর্তন করতে বাধ্য হচ্ছে।

একের পর এক ফ্লাইট বাতিল হওয়ায় সবচেয়ে বিপাকে পড়েছেন হাজার হাজার প্রবাসী রেমিট্যান্স যোদ্ধা। অনেকে জরুরি ছুটিতে দেশে এসে আটকা পড়েছেন।

আবার অনেকের নতুন ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার সময় ঘনিয়ে আসছে, কিন্তু ফিরে যাওয়ার কোনো নিশ্চয়তা নেই। টিকিটের টাকা ফেরত পাওয়া বা নতুন ফ্লাইটের শিডিউল নিয়ে তারা চরম অনিশ্চয়তায় ভুগছেন।

শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের জনসংযোগ কর্মকর্তা প্রকৌশলী মোহাম্মদ ইব্রাহীম খলিল বলেন, “যুদ্ধের উত্তাপ সরাসরি যাত্রীসেবায় এসে পড়েছে।

কয়েক হাজার প্রবাসী ও পর্যটক চরম ভোগান্তির শিকার। পরিস্থিতি কবে স্বাভাবিক হবে তা এখনও অনিশ্চিত।”

মধ্যপ্রাচ্যের এই সংকট শুধু চট্টগ্রাম নয়, ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরেও শত শত ফ্লাইট বাতিল করেছে। ফলে দেশের অর্থনীতির অন্যতম প্রধান খাত রেমিট্যান্স প্রবাহেও নেতিবাচক প্রভাব পড়তে শুরু করেছে।

বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আকাশপথ নিরাপদ না হওয়া পর্যন্ত এই ধরনের বাতিলকরণ অব্যাহত থাকতে পারে। যাত্রীদের সর্বশেষ আপডেটের জন্য সংশ্লিষ্ট এয়ারলাইন্সের সঙ্গে যোগাযোগ করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।