শেরপুরে ট্রাংক থেকে নারীর মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় দম্পতি গ্রেপ্তার
শেরপুরের শ্রীবরদীতে ট্রাংকের ভেতর থেকে হাত-পা বাঁধা অবস্থায় ডলি আক্তার (৩৫) নামে এক নারীর মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় এক দম্পতিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন- হত্যায় জড়িত মূল আসামি নিয়ামুর নাহিদ (২৬) ও সহযোগী আসামি তার স্ত্রী মোছা. রিক্তা মনি (২৬)।
শনিবার (৪ এপ্রিল) শেরপুর প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) জামালপুরের পুলিশ সুপার পংকজ দত্ত পিপিএম।
তিনি জানান, মাত্র ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে চাঞ্চল্যকর এ হত্যা মামলার রহস্য উদ্ঘাটন করা সম্ভব হয়েছে।
সংবাদ সম্মলনে পিবিআই জানায়, গত ১ এপ্রিল সকালে উপজেলার তাঁতীহাটি নয়াপাড়া ঢালিবাড়ী মোড়ে একটি ট্রাংকের ভেতর থেকে বস্তাবন্দি অবস্থায় অজ্ঞাত নারীর অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
খবর পেয়ে পিবিআইয়ের একটি দল ঘটনাস্থলে গিয়ে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় নিহত অজ্ঞাতনামা নারীর পরিচয় শনাক্ত করে। নিহত ডলি নেত্রকোণার মোহনগঞ্জ উপজেলার মো. আলাল মিয়ার মেয়ে।
পিবিআই আরও জানায়, এ ঘটনায় ডলির ভাই মো. শফিকুল ইসলাম শফিক বাদী হয়ে শ্রীবরদী থানায় অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে হত্যা মামলা করেন। মামলাটির তদন্ত শুরু করে তাদের বেশ কয়েকটি টিম।
এরই ধারাবাহিকতায় শুক্রবার (৩ এপ্রিল) মরদেহ বহনকারী অজ্ঞাতনামা নীল রংয়ের পিকআপ গাড়িটি তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় শনাক্ত করে শ্রীবরদী উপজেলার ভেলুয়া থেকে উদ্ধার ও পিকআপ চালক আশরাফ আলীকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হেফাজতে নেয়া হয়।
পরবর্তীতে তার দেয়া তথ্য যাচাই-বাছাই করে ঘটনায় জড়িত দুইজন আসামিকে গ্রেপ্তাররের লক্ষ্যে গাজীপুর, নারায়ণগঞ্জ, ময়মনসিংহ, শেরপুর জেলায় অভিযান পরিচালনা করা হয়।
সর্বশেষ তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় এ ঘটনার প্রধান আসামি মো. নিয়ামুর নাহিদ ও সহযোগী আসামি তার স্ত্রী মোছা. রিক্তা মনিকে শেরপুর-ময়নসিংহ মহাসড়কের ভাতশালা পল্লীবিদ্যুৎ অফিসের সামনে একটি যাত্রীবাহী বাস থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের আদালতে সোপর্দ করা হয়।
আদালতে তারা হত্যার দায় স্বীকার করে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। জবানবন্দি গ্রহণ শেষে আসামিদের জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
আদালতের জবানবন্দি, প্রাথমিক তদন্ত ও জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে, নিহত ডলি আক্তারের আগের স্বামী কাজিম উদ্দিন মারা যাওয়ার পর প্রায় ৩ বছর আগে তিনি বিল্লাল হোসেন নামে একজনকে বিয়ে করেন।
বিয়ের পর থেকেই ডলি আক্তার ভালুকা স্কয়ার মাস্টারবাড়ী আইডিয়াল মোড় পয়েন্ট এলাকায় বাসা ভাড়া নিয়ে থাকতেন এবং একটি গার্মেন্টসে চাকরি করতেন। আর গ্রেপ্তারকৃত আসামি নিয়ামুর নাহিদ ও রিক্তা মনি গাজীপুরের শ্রীপুরে ভাড়া বাসায় থেকে টেক্সটাইলে চাকরি করেন।
গত ৩০ মার্চ রাত আনুমানিক ৮টার দিকে নিয়ামুর নাহিদ তার স্ত্রী বাসায় না থাকার সুযোগে ডলি আক্তারের সঙ্গে তাৎক্ষণিক পরিচয়ের সূত্র ধরে তাকে অনৈতিক কর্মকাণ্ডের জন্য বাসায় নিয়ে যায়। বাসায় যাওয়ার পর সেখানে টাকার দর কষাকষি নিয়ে তাদের মধ্যে বাগবিতণ্ডা হয়।
একপর্যায়ে ডলি আক্তার বেশি চিৎকার চেঁচামেচি শুরু করলে নাহিদ লোক জানাজানির ভয়ে ডলির গলায় গামছা দিয়ে পেঁচিয়ে ধরে রাখে। এতে ডলি শ্বাসরুদ্ধ হয়ে মারা যায়। পরবর্তীতে নাহিদ তার স্ত্রী রিক্তা মনিকে হত্যাকাণ্ডের বিষয়টি জানান এবং উভয়ে মিলে হত্যার বিষয়টি গোপন রাখতে ডলির মরদেহ ট্রাংকে ভরে পরদিন পিকআপ ভাড়া নিয়ে শেরপুরের শ্রীবরদীতে নামিয়ে দিয়ে পুনরায় গাজীপুর চলে যান।
এদিকে, অনৈতিক কর্মকাণ্ডের জন্য টাকার দর কষাকষি নিয়ে ডলিকে হত্যার দায় স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দি দিয়েছেন আসামি নিয়ামুর নাহিদ ও তার স্ত্রী রিক্তা মনি। এছাড়াও সাক্ষী হিসেবে জবানবন্দি দিয়েছেন পিকআপ চালক আশরাফ আলী।
সংবাদ সম্মেলনে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা পিবিআইয়ের এসআই মো. আব্দুস সালাম, এসআই মো. ফয়জুর রহমান, এসআই মো. সামিউল ইসলাম, এসআই মো. হাফিজুর রহমানসহ জেলায় কর্মরত গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
